google-site-verification: google1073b60c0af5bdcc.html বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষক ও শিক্ষা ব্যবস্থার হালচাল ll Non-Government teachers and education system in Bangladesh - Lebu-Techno Bangla, social media setting, website disign,Android apps review,Tutorial Bangla

Header Ads

Header ADS

বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষক ও শিক্ষা ব্যবস্থার হালচাল ll Non-Government teachers and education system in Bangladesh


Bangladesh education, Bangladesh education system, Bangladesh teacher,, Bangladesh government teachers, Bangladesh non government teachers, Non-Government  teachers and education system in Bangladesh

Non-Government  teachers and education system in Bangladesh


আসসালামু আলাইকুম,
হ্যালো বন্ধুরা।কয়েকদিন থেকে ভাবছি যে বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষক সমন্ধে লিখবো।
   কিন্তু কি লিখবো,কিভাবে লিখবো, কেন লিখবো,কোথাও লিখবো, কোত্থেকে লিখবো?ভেবে উঠতে পারছিনা।
যাহোক শুরু করে দিলে হয়তো কথার পিঠে কথা এসে যাবে।
 বন্ধুরা,ইংরেজিতে একটা চিরসত্য বাক্য আছে "Education is the backbone of a nation"
 অর্থাৎ শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড।
বাক্যটি চরম সত্য। পৃথিবীতে যে দেশ যত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছে সেদেশ তত উন্নত হয়েছে।
কারণ শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি মেরুদন্ডহীন প্রাণীর মতো।
মেরুদণ্ড ছাড়া কোন প্রাণী যেমন সোজা হতে পারে না,হাঁটতে পারে না,চলতে পারে না,পৃথিবী দেখতে পারে না।
ঠিক তেমনি শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না,বিশ্বের উন্নত জাতির নিকট হেয় হয়ে যায়।
 বন্ধুরা আপনারা জানেন যে বিশ্বে Top Ten রাষ্ট্র হিসেবে যাদের স্থান, তাঁদের মুল হাতিয়ার হলো শিক্ষা।
 চীন,ভারত,রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য এরা এতো উন্নত কেন?
এরা চতু্র্দিক থেকে উন্নত। রাষ্ট্রের মুলনীতি পাঁচটি ।
অর্থাৎ অন্ন,বস্ত্র,বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা।
বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলো এই পাঁচটি মুলনীতি কার্যকরি বাস্তবায়ন করেছে। তাই তারা এতো উন্নত।
এদের উন্নতির জন্য মুখ্য ভুমিকা পালন করেছে শিক্ষা।

এসব দেশে শিক্ষা ব্যবস্থাটা অনেক উন্নত,অনেক আধুনিকতা,অনেক যুগোপযোগী।
কারন তাদের শিক্ষা ব্যবস্থার কোন শব্দে 'বে' বা 'Non'
শব্দটি  নেই।
তাই তারা এতো উন্নত। টপ টেন রাষ্ট্র গুলোতে একজন শিক্ষকের বেতন অন্যান্য চাকরি জীবি গুলোর চেয়ে সবচেয়ে বেশি।
পক্ষান্তরে আমাদের দেশ তথা বাংলাদেশের দিকে একবার দেখুন।
এখানে ক্ষমতাসীনরা শুধু বলে যে, দেশ শিক্ষায় অনেক উন্নত।
কিন্তু আসলে তা নয়। উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার কোন সিনটমই দেখা যায় না বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায়।
যেদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বে শব্দ রক্ষিত সে দেশে কিভাবে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা আশা করা যায়?
'বে' শব্দটি ঋণাত্নক শব্দ হিসাবে পরিচিত।
যার অর্থ নেই বা না বা বিনা বা  নয় বা No বা Non বা Negative ।
আবার বলা যায় যার অর্থ ঋণাত্নক বা নেতিবাচক।
তাহলে এতো গুলো না বাচক শব্দের সমাহার যে শিক্ষা ব্যবস্থায়, সেখানে উন্নত আশা করা যায় কী,বলুন বন্ধুরা?
আসলে দোষ তো আমাদেরই।আমরা তো নিজেরাই বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে ব্যর্থ।
কারণ শিক্ষা প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা আমলাদের জন্যই এই অবস্থা।
যতদিন এই বে শব্দটি বাংলাদেশ শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে মুচে না যাবে ততদিন উন্নত শিক্ষা ব্যবম্থা আশা করা যায় না।
কথায় আছে- "পিতায় জন্ম দেয় ভুত, শিক্ষক বানায় তাকে পুত"।
আর সে শিক্ষকের মুল্যায়ন করা হয় না।
যেখানে একই বেতন কোডের একজন বেসরকারি শিক্ষক বেতন পান ২২০০০ টাকা আর পক্ষান্তরে  একজন সরকারি শিক্ষক পান ৪৫০০০ টাকা।
অথচ আপনার জানেন কি? দেশের সিংহভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো বেসরকারি।
অর্থাৎ দেশে শতকরা ৯৫% মাধ্যমিক  শিক্ষা প্রতিষ্টান বেসরকারি।
প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী পাস করে বের হয় এই বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে।
সরকার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে সুনজর দেন না।
Non government teachers in Bangladeshi education system,government teachers of Banglades,
Pic- education system of Bangladesh 
একই বেতন কোডে একই পরিশ্রম করে কেউ বেতন পাবেন ২২০০০ টাকা, আর কেউ ৪৫০০০ টাকা।
এটা চরম বৈষম্য নয় কি?
তবে পুর্বের তুলনায় বর্তমান একটু সদয় হয়েছে সরকার।
৫% বাৎসরিক প্রবৃদ্ধিসহ  ২০% উৎসব ভাতা ও বৈশাখি ভাতার ব্যবস্থা করেছেন।
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের অনেকদিনের বহুল প্রত্যাশিত চাহিদা জাতীয়করণ।
বেসরকারি শিক্ষকের ঐ বেতনে বর্তমান বাজারে চলে না।
কারন সবকিছুর চড়া দাম। ঐ বেতন দিয়ে তাঁরা একমাস সামাল দিয়ে চলতে পারে না।
ফলে শিক্ষকরা অতিরিক্ত কাজে জড়িত হতে বাধ্য হয়।
যেমন প্রাইভেট,টিউশনি,কোচিং, ব্যবসা,গ্রামীন চিকিৎসক হিসাবে অতিরিক্ত কাজে জড়িত থাকে।
ভবিষ্যতে শিক্ষকদের একমুখী ব্যবস্থা অর্থাৎ শিক্ষককে  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানমুখি রাখতে পারলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি আশা করা সম্ভব।
শিক্ষককে তাঁর ন্যর্য পাওনা তথা বেতন বৃদ্ধি করলে,তাঁরা প্রতিষ্ঠানে বেশিরভাগ সময় ব্যয় করলে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি আশা করা যায়।

আসি অন্য প্রসঙ্গে
বাংলাদেশের  পাঠ্যসুচি ও পাঠ প্রনয়ন অস্থায়ী পদ্ধতি।
যা শিক্ষার্থীদের কাছে এ্যালোমেলো মনে হয়।তাই তাঁরা পাঠে মনোনিবেশ করতে পারে না।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পাঠ্যসুচি বা পাঠ পরিকল্পনা বা পাঠ প্রনয়ণ বা পরীক্ষা পদ্ধতি কোনটাই স্থায়ী নয়।
কারন আজ এক রকম সিলেবাস কাল পরিবর্তন করে আবার আর এক রকম করা হচ্ছে।
তাতে করে শিক্ষার্থীরা বুঝতে সমস্যায় পড়ছে।
বারবার  সিলেবাস পরিবর্তন করলে শিক্ষার্থীদের ধারনক্ষমতার বাহিরে চলে যায়।
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার  মুল্যায়ন পদ্ধতি অনেক ভাল।
কিন্তু শিক্ষার্থীরা এসব নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই।
এ পদ্ধতি চালু হওযাতে শিক্ষার্থীরা বই বিমুখ হয়েছে।
কারন একজন এ প্লাসের শিক্ষার্থী তার ব্যবহারিক পরীক্ষায় সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না।
তারা বই পড়ে না।তাই বেশি কিছু জানে না।
শুধু ভাল ফলাফল করে কিন্তু ভিতরে কিছু নেই।
তার উদাহরণ স্বরুপ বলি সেবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক সম্মান ভর্তি পরীক্ষায় ৪০০০ শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটিও পাশ করে নি।
তাহলে বুঝুন শিক্ষার বর্তমান অবস্থা।
বাহিরের দেশে শিক্ষার মুল্যায়ন পদ্ধতি অনেক সুন্দর গ্রেট পদ্ধতি।
আবার শুনছি বাংলাদেশ শিক্ষার মুল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তন হচ্ছে।
অর্থাৎ জিপিএ ৫  এর পরিবর্তে  জিপিএ ৪ করতে যাচ্ছে।
আমার মনে হয় এ রকম পরিবর্তন করতে করতে আবার জিপিএ ৩ তবে এসে দাঁড়াবে।
অর্থাৎ সেই আমাদেরকার শিক্ষা ব্যবস্থার নিকট পোঁছিতে পারে।
তাছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলাকালীন সরকার কতৃক আরোপিত বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় দিবস বা অনুষ্ঠান বা শিক্ষার্থীদের কেবিনেট নির্বাচন পালনে শিক্ষার চলমান গতিরোধ হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোনিবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।

যা বলছিলাম পুর্বেকার নিয়মে ১ম বিভাগ,২য় বিভাগ ও ৩য় বিভাগে পৌঁছিতে পারে।

ঐ পদ্ধতি ই অনেক ভাল ছিল।
তখনকার যুগে শিক্ষার্থীরা পড়তো, জানতো অনেক কিছু।
দেশে শিক্ষকদের আর আগের মতো মান মর্যাদা নেই।
আমেরিকার একজন শিক্ষককে দেখলে ঐ দেশের প্রেসিডেন্ট গাড়ী থামিয়ে ছালাম দেন সম্মান করেন।
সেখানে শিক্ষকদের স্থান সবার উপরে।
আর আমাদের দেশে তার উল্টো। এখানে একজন শিক্ষকের মর্যাদা তো নেই।
তাছাড়া শিক্ষককে স্যার বলা তো দুরে কথা, মাস্টার কথাটা ও ভালো করে বলে না, ঘৃর্ণার কন্ঠে বলে "মাস্টোর"।
এই তো হলো অবস্থা। আমরা আমাদের শিক্ষককে আজো দেখলে সাইকেল থেকে নেমে ছালাম দিই,স্যার পার না হওয়া পর্যন্ত হেঁটে যাই।
বন্ধরা,যাইহোক বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় যেদিন প্রশাসনিক দৌরাত্ম বন্ধ হবে,যেদিন শিক্ষক বেতন বৈষম্য দুর হবে,যেদিন শিক্ষকদের মর্যদা থাকবে দেশের সর্বাচ্চে, যেদিন শিক্ষা ব্যবস্থা মুল্যায়ন পদ্ধতি হবে অত্যাধুনিক,যেদিন শিক্ষকরা একমুখী পেশায় নিয়োজিত থাকবে,যেদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সন্ত্রাস,দুর্নীতি,সহিংসতা নির্মুল হবে,
সেদিনেই এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি হবেই হবে।

তো বন্ধুরা আজ এ পর্যন্ত এবার তাহলে লেখার ইতি টানি।
তবে যাবার আগে একটা অনুরোধ রাখবো যে লেখাটি কেমন লাগলো? তা কমেন্ট বক্সে জানাবেন। ভাল লাগলে শেয়ার করবেন।কেমন? ধন্যবাদ সবাইকে। 
খোদা হাফেজ।


1 টি মন্তব্য:

[email protected]

Blogger দ্বারা পরিচালিত.